🔧 ফ্রি টুলস

ফুটবল খেলা নিয়ে ১০টি অবাক করা তথ্য : পর্ব-১

ফুটবল শুধু একটা খেলা নয়, এটি একটি আবেগ। আর এই আবেগের জগতে এমন কিছু ঘটনা আছে, যা শুনলে প্রথমে বিশ্বাসই হতে চায় না। চলুন দেখে নেওয়া যাক ফুটবল বিশ্বের এমন কিছু অদ্ভুত, চমকপ্রদ ও লোমহর্ষক তথ্য, যেগুলো জানলে আপনি নিজেও অবাক হয়ে যাবেন।

Image by Begench Begenjov from Pixabay


১. একজন ফুটবলার ম্যাচে গড়ে কত দূরত্ব দৌড়ান জানেন?

একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল ম্যাচে একজন খেলোয়াড় গড়ে প্রায় ৯.৫ মাইল বা প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৌড়ে থাকেন। মিডফিল্ডাররা সাধারণত সবচেয়ে বেশি দৌড়ান, কারণ তাদেরই আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই দৌড়াতে হয়। অর্থাৎ একটি ৯০ মিনিটের ম্যাচ শেষে একজন খেলোয়াড় প্রায় একটি হাফ-ম্যারাথনের কাছাকাছি দূরত্ব পাড়ি দেন, তাও আবার বল নিয়ন্ত্রণ, ট্যাকল আর গতির ওঠানামার মধ্যে দিয়ে।

 

২. বজ্রপাতে ১১ জন খেলোয়াড়ের মৃত্যু, বেঁচে গেল প্রতিপক্ষ দল

১৯৯৮ সালের ১১ অক্টোবর, আফ্রিকার কঙ্গোতে একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসে ভয়ংকর বজ্রপাত। মাঠে থাকা একটি দলের সবক'টি খেলোয়াড়, অর্থাৎ ১১ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান। অথচ অবাক করা বিষয় হলো, প্রতিপক্ষ দলের একজন খেলোয়াড়ও আহত হননি। এই ঘটনাটি আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য, কারণ একই মাঠে থেকেও কীভাবে শুধু একদল সম্পূর্ণভাবে বজ্রাঘাতের শিকার হলো, তার সঠিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেননি।

 

৩. গোলরক্ষক হয়েও ১৩১ গোল!

ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক রোজেরিও সেনি শুধু গোল ঠেকাননি, বরং নিজেই ১৩১টি গোল করে ইতিহাস গড়েছেন। সাও পাওলো ক্লাবের হয়ে ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি থেকে নিয়মিত গোল করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, গোলরক্ষকও হতে পারেন দলের সেরা গোলদাতা।

 

৪. একটি ম্যাচে ১৪৯টি আত্মঘাতী গোল!

২০০২ সালে মাদাগাস্কারের একটি ঘরোয়া লিগ ম্যাচে ঘটে এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড। রেফারির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি দল ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের জালেই বারবার বল পাঠাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল দাঁড়ায় ১৪৯-০, আর প্রতিটি গোলই ছিল আত্মঘাতী। ফুটবল ইতিহাসে প্রতিবাদ জানানোর এমন অদ্ভুত উপায় আর দ্বিতীয়টি নেই।

৫. দুই সেকেন্ডেই লাল কার্ড!

২০০০ সালে ইংল্যান্ডের একটি স্থানীয় লিগ ম্যাচে খেলোয়াড় লি টড রেফারির হুইসেলের শব্দে চমকে উঠে মুখ ফসকে একটি কটু মন্তব্য করে ফেলেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে তাকে লাল কার্ড দেখান, খেলা শুরুর মাত্র দুই সেকেন্ডের মাথায়। এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম বহিষ্কারের রেকর্ড হয়ে আছে।

৬. পেলে বনাম ফিফা: গোলের হিসাবে বিরাট পার্থক্য

কিংবদন্তি পেলে নিজে দাবি করতেন তিনি ক্যারিয়ারে ১,২৮৩টি গোল করেছেন, যেখানে বন্ধুত্বপূর্ণ ও যুব ম্যাচের গোলও যুক্ত ছিল। কিন্তু ফিফার সরকারি হিসাব অনুযায়ী তার স্বীকৃত গোলসংখ্যা মাত্র ৭৫৭টি। এই পার্থক্যের কারণ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আজও তর্ক-বিতর্ক চলে।

৭. ট্রফি লুকানো ছিল জুতার বাক্সে

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর হাতে পড়া থেকে বাঁচাতে ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালির জুলে রিমে ট্রফিটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল একটি সাধারণ জুতার বাক্সে, ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন কর্মকর্তা অটোরিনো বারাসির বিছানার নিচে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে মূল্যবান ট্রফিটি এভাবেই যুদ্ধের আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

৮. প্রথম বিশ্বকাপ জিতেও পরের আসর বয়কট!

১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন করে উরুগুয়ে, এবং শিরোপাও জেতে তারাই। কিন্তু ১৯৩০ সালে অনেক ইউরোপীয় দল দক্ষিণ আমেরিকায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বলে, প্রতিবাদস্বরূপ উরুগুয়ে নিজেরাই পরের ১৯৩৪ বিশ্বকাপ বয়কট করে, যা ইতালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এখন পর্যন্ত উরুগুয়েই একমাত্র চ্যাম্পিয়ন দল, যারা পরের আসরে অংশ নেয়নি।

৯. টসে হেরে ধার করা জার্সি পরে মাঠে!

১৯৭০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে দুই দলের জার্সির রং একরকম হয়ে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। বিষয়টি সমাধানে টস করা হয়, যেখানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে তাদের একটি সুইডিশ ক্লাবের কাছ থেকে ধার করা হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামতে হয়েছিল।

১০. নিজের ওষুধেই অজ্ঞান হয়ে গেলেন চিকিৎসক!

১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের এক ম্যাচে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে যুক্তরাষ্ট্র দলের ফিজিও জ্যাক কল একজন আহত খেলোয়াড়কে চিকিৎসা দিতে মাঠে ছুটে যান। কিন্তু তাড়াহুড়োয় তার মেডিকেল ব্যাগ থেকে ক্লোরোফর্মের বোতল পড়ে ভেঙে যায়, আর সেই গ্যাসেই তিনি নিজেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। শেষে আহত খেলোয়াড়ের বদলে তাকেই স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিতে হয়!

 

ফুটবলের এই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, মাঠের ৯০ মিনিটের বাইরেও এই খেলার ইতিহাস কতটা রোমাঞ্চকর হতে পারে। আপনার জানা এমন কোনো অবাক করা ফুটবল তথ্য থাকলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ