কোন রোগের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবো? জেনে নিই


আমরা অনেক সময় অসুস্থ হলে প্রথমে যেকোনো ডাক্তারের কাছে ছুটি, কিন্তু সঠিক স্পেশালিস্টের কাছে না গেলে চিকিৎসা হয়তো ঠিকঠাক হয় না বা সময় নষ্ট হয়। তাই আজকের পোষ্টটি সাধারণ জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা। এটা থেকে আপনারা একটা ধারণা পাবেন, কোন রোগের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, যেকোনো গুরুতর সমস্যায় প্রথমে একজন জেনারেল ফিজিশিয়ানের সাথে কথা বলে নেওয়া ভালো । তারা প্রথম লাইন অফ ডিফেন্স।  তারা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক স্পেশালিস্টের কাছে রেফার করতে পারবে। চলুন, এক এক করে দেখি:

kon-roger-jonno-kon-doctor-dekhabo-guide
Image by Yerson Retamal from Pixabay


১. মাথা, মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর সমস্যা – নিউরোলজিস্ট 
যদি মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, স্ট্রোক, অ্যালজাইমার বা স্নায়ু-সম্পর্কিত কোনো সমস্যা হয়, তাহলে নিউরোলজিস্টের কাছে যেতে হবে। তারা মস্তিষ্কের স্ক্যান এবং টেস্ট করে সঠিক চিকিৎসা দেন। যদি সমস্যাটা অপারেশনের দরকার হয়, তাহলে নিউরোসার্জনের সাহায্য নিতে হতে পারে।

২. হৃদরোগ এবং রক্তচাপ – কার্ডিওলজিস্ট
হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যারিদমিয়ার মতো সমস্যায় কার্ডিওলজিস্ট। তারা ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম করে ডায়াগনোসিস করেন। 

৩. মানসিক রোগ – সাইকিয়াট্রিস্ট
ডিপ্রেশন, অ্যাঙ্কজাইটি, বাইপোলার বা স্কিজোফ্রেনিয়ার মতো মেন্টাল হেলথ ইস্যুতে সাইকিয়াট্রিস্ট। তারা মেডিসিন এবং থেরাপি দেন। ফ্যাক্ট: মেন্টাল হেলথকে অবহেলা করবো না, কারণ এটা শারীরিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে। যদি থেরাপি দরকার হয়, তাহলে সাইকোলজিস্টের সাহায্য নাও।

৪. শিশুর রোগ – পেডিয়াট্রিশিয়ান
নবজাতক থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ফিভার, ভ্যাকসিন বা গ্রোথ ইস্যুতে পেডিয়াট্রিশিয়ান। তারা শিশুদের বিশেষভাবে ট্রিট করেন। অতিরিক্ত: যদি শিশুর হার্ট বা কিডনির সমস্যা হয়, তাহলে পেডিয়াট্রিক স্পেশালিস্ট (যেমন পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট) দেখাও।


৫. নারীদের রোগ – গাইনোকলজিস্ট
পিরিয়ড ইস্যু, প্রেগন্যান্সি বা ইউটেরাসের সমস্যায় গাইনোকলজিস্ট। তারা আলট্রাসাউন্ড করে চেক করেন। 

৬. পেট এবং হজমের সমস্যা – গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট
গ্যাস, আলসার, আইবিএস বা লিভারের সমস্যায় গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট। তারা এন্ডোস্কোপি করে ডায়াগনোসিস করেন। ফ্যাক্ট: অ্যাসিডিটি প্রায়ই স্ট্রেস থেকে হয়, তাই লাইফস্টাইল চেঞ্জ করো।

৭. কিডনি এবং প্রস্রাবের সমস্যা – নেফ্রোলজিস্ট
কিডনি ফেলিওর, ইউটিআই বা ডায়ালাইসিসের দরকার হলে নেফ্রোলজিস্ট। তারা ক্রিয়েটিনিন টেস্ট করে চেক করেন। ফ্যাক্ট: ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশন কিডনিকে খারাপ করে, তাই প্রিভেনশন জরুরি।

৮. হাড় এবং মেরুদণ্ডের সমস্যা – অর্থোপেডিক সার্জন
ফ্র্যাকচার, আর্থ্রাইটিস বা স্পাইনাল ডিস্কের সমস্যায় অর্থোপেডিক সার্জন। তারা এক্স-রে এবং সার্জারি করেন। 

৯. নাক, কান এবং গলার সমস্যা – ইএনটি স্পেশালিস্ট 
সাইনাস, কানের ইনফেকশন, গলা ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো ইস্যুতে ইএনটি (অটোল্যারিঙ্গোলজিস্ট) দেখাও। তারা এন্ডোস্কোপি করে চেক করেন। 

১০. হার্টের অপারেশন – কার্ডিয়াক সার্জন
বাইপাস সার্জারি বা ভালভ রিপ্লেসমেন্টের মতো অপারেশনে কার্ডিয়াক সার্জন। তারা কার্ডিওলজিস্টের সাথে কাজ করেন। 

১১. চামড়ার সমস্যা (যেমন একজিমা, অ্যাকনে) – ডার্মাটোলজিস্ট 
তারা স্কিন ক্যান্সারও চেক করেন। ফ্যাক্ট: সানস্ক্রিন ব্যবহার করে স্কিন প্রোটেক্ট করো, বিশেষ করে গরমে। 

১২. চোখের সমস্যা (দৃষ্টি, গ্লুকোমা) – অপথালমোলজিস্ট। 
চশমা বা কনট্যাক্ট লেন্সের জন্যও তাদের দেখাও। অতিরিক্ত: ডায়াবেটিস থাকলে চোখের রেটিনা চেক করাও জরুরি। 

১৩. দাঁতের সমস্যা (ক্যাভিটি, অর্থোডন্টিক্স) – ডেন্টিস্ট। 
ওরাল হাইজিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্ট: দিনে দুবার ব্রাশ করলে অনেক দাঁতের সমস্যা এড়ানো যায়। 

১৪. ক্যান্সার – অনকোলজিস্ট
তারা কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন দেন। অতিরিক্ত: নিয়মিত স্ক্রিনিং (যেমন ম্যামোগ্রাম) ক্যান্সার আগে ধরতে সাহায্য করে। 

১৫. ডায়াবেটিস বা হরমোনের সমস্যা – এন্ডোক্রিনোলজিস্ট
থাইরয়েডও তাদের ডোমেইন। ফ্যাক্ট: ডায়াবেটিস কন্ট্রোল না করলে হার্ট বা কিডনির সমস্যা হতে পারে। 

১৬. ফুসফুসের সমস্যা (অ্যাস্থমা, সিওপিডি) – পালমোনোলজিস্ট
ধূমপান, এয়ার পলিউশন ও বিভিন্ন কারণে আমাদের ফুসফুসের অনেক ক্ষতি হয় । যদি এই সমস্যা হয় পালমোনোলজিস্টকে দেখানো দরকার ।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ